Advertisement
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় বিশ্ব-ব্যাংকের অর্থায়নে মানব-সম্পদ উন্নয়নে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়নে ৬টি ইউনিয়নে ল্যাট্রিন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপকারভোগী ও স্থানীয়দের দাবি, ইউনিয়ন পর্যায়ের অহিদুল ইসলামসহ অনেক অদক্ষ স্যানেটিশন স্বত্বাধিকারীদের সঙ্গে অনিয়মে জড়িত উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. হাসান আলী ও সহযোগী কুড়িগ্রাম জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রাক্কলনিক কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান।
জানা গেছে, ২০৩০সালের মধ্যে সবার জন্য পর্যাপ্ত ও সমতাভিত্তিক পয়ঃনিষ্কাশন, স্বাস্থ্যবিধিসম্মত জীবন রীতিতে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংক এবং এশীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যাংক (এআইআইবি) অর্থায়নে টুইন পিট ল্যাট্রিন প্রকল্পের কাজ শুরু হয় যা দেশের ৩০জেলার ৯৮টি উপজেলায় কাজ চলমান। স্থানীয় সরকার বিভাগের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। কাজ শেষ হবে চলতি বছর।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, এই প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত এলাকায় সারা দেশে তিন লাখ ৫১হাজার ২৭০টি হতদরিদ্র পরিবারে বিনামূল্যে টুইন পিট ল্যাট্রিনের কাজ চলছে। যার মধ্যে ফুলবাড়ি উপজেলার বড়ভিটা, ফুলবাড়ী, ভাঙ্গামোড়, নাওডাঙ্গা, কাশিপুর ও শিমুলবাড়ী ইউনিয়ন (৬টি ইউপি)'র ১হাজার ৩৭৪টি ল্যাট্রিনের তালিকা প্রণয়ন করেন ইউপি চেয়ারম্যান এবং প্রকল্পের সহযোগী এনজিও জেভি-৩ ড্রপ অ্যান্ড ওয়াটার এইডের স্থানীয় প্রতিনিধিরা। প্রতিটি ইউনিয়নে ২২৯টি পরিবারের জন্য ল্যাট্রিন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুলবাড়ী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় ৬টি ইউনিয়নের ১হাজার ৩৭৪টি পরিবারের টুইন পিট ল্যাট্রিন নির্মাণে ৪কোটি ৮২লাখ ৩৮হাজার ৩৯২টাকা বরাদ্দ। প্রতিটি টয়লেট নির্মাণে ভ্যাটসহ ব্যয় ৩৫হাজার ১০৮টাকা ধরা হলেও উদ্যোক্তাদের দেওয়া হচ্ছে সর্বোচ্চ ২২থেকে ২৩হাজার টাকা। আর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো নির্মাণে সর্বোচ্চ ১৪-১৬হাজার টাকা ব্যয় করছে।
স্থানীয় ও উপকারভোগীদের অভিযোগ, প্রতিটি ল্যাট্রিন নির্মাণে বরাদ্দের এক-তৃতীয়াংশ অর্থে এসব নির্মাণ কাজ চলছে। ফলে প্রশ্ন রয়েছে এসবের মান নিয়েও। অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে ফুলবাড়ী বড়ভিটা ইউনিয়নের পূর্ব ধনিরাম গ্রামের উপকারভোগী আব্দুর রহমান, নুর ইসলাম, মোঃ শহিদ মিয়া, জোশোদা রাণী অভিযোগ করে বলেন, বড়ভিটা ইউনিয়নের স্যানেটেশন স্বত্বাধিকারী অহিদুল ইসলাম নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে দ্রুত ল্যাট্রিন নির্মাণ করছেন। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং অহিদুলের যোগসাজস করে চুক্তিভিত্তিক অহিদুলের মাধ্যমে নিম্নমানের তৈরিকৃত ১০টি রিং, দুটি স্ল্যাব, সিমেন্টের তৈরি পিলার ও নিম্নকাঠ দিয়ে সর্বোচ্চ ১৪-১৬হাজার টাকায় ল্যাট্রিন নির্মাণ করছেন। বর্তমানেই নব-নির্মিত ল্যাট্রিনগুলো পর্যায়ক্রমে ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে।
ভাঙ্গামোড়, কাশিপুর, নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানিয়েছেন, তাদের কাছ থেকে জনপ্রতিনিধিরা তালিকায় নাম ওঠাতে ৩হাজার থেকে ৫হাজার টাকা নিয়েছেন। বর্তমানে যে ল্যাট্রিনগুলো নির্মাণ হচ্ছে তা অল্প দিনের মধ্যে ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে দাঁড়াবে। ল্যাট্রিন নির্মাণে অনিয়মের শেষ নেই। তদন্ত সাপেক্ষে অনিয়মের বিচার চান তারা।
ফুলবাড়ী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. হাসান আলী বলেন, সাংবাদিক সাহেব কুড়িগ্রাম জনস্বাস্থ্য অফিসের প্রাক্কলনিক কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান আপনার সাথে কথা বলবে। ফাইনাল বিল হলে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। সংবাদ করার প্রয়োজন নেই।
কুড়িগ্রাম জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রাক্কলনিক কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, ফুলবাড়ী উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলের ল্যাট্রিন নির্মাণের সকল তদারকি আমি করছি। যা বলার আমাকে বলেন। অফিসে আসেন কথা হবে।
কুড়িগ্রাম জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হারুনুর রশিদ বলেন, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর রংপুর বিভাগের তত্বধায়ক প্রকৌশলী মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিশ্ব-ব্যাংকের অর্থায়নে ও ফুলবাড়ী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের তত্ত্বাবধায়নে ইউনিয়ন পর্যায়ে ল্যাট্রিন নির্মাণে অনিয়মের তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনুমা তারান্নুম বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল ল্যাট্রিন নির্মাণে আমাদেরকে কোন অবগত করেনি। এ বিষয়ে আমার জানাও নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।